April 20, 2026, 3:16 am

অঢেল সম্পদের মালিক তিতাসের সাহায্যকারী শামসুদ্দিন

স্টাফ রিপোর্টার ঢাকা ডেমরা থানার সারুলিয়া রানীমহল এলাকার শামসুদ্দিন ওরফে তিতাস শামসুদ্দিন (ছোট শামসুদ্দিন)।
চাকরী করেন তিতাসগ্যাসের টেকনিশিয়ান এর সাহায্যকারী হিসেবে,নারায়ণগঞ্জে। থাকেন ডেমরা রানীমহল এলাকার তিতাস কোয়াটারে। তবে এলাকায় সবাই  গ্যাস শামসুদ্দিন (ওরফে) ছোট শামসুদ্দিন নামেই চিনে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে, একাধীক ব্যাক্তি জানান শাসুদ্দিন কোয়াটারে থাকার কারন তার অবৈধ অর্থ সম্পদ না জানানো।

তিতাসগ্যাসে সাহায্যকারী হিসেবে চাকরি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন  তিনি।চাকরি করেন নারায়ণগঞ্জ তিতাস ট্রান্সমিশন কোম্পানিতে, সেখানে চাকরি করার সুবাদে নারায়ণগঞ্জ সদর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় চুন কারখানা, কয়েল,খানাডুলি ডাইং কারখানা আবাসিক বাসাবাড়িতে অবৈধ সংযোগ দিয়ে। হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা, বনে গেছেন কোটি কোটি ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স সহ অর্থ সম্পদের মালিক। এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ,দিয়ে গ্যাসের বিল তুলে রাতারাতি তিনি আঙ্গুলফুলে কলাগাছে পরিনত হয়েছেন। 

রানীমহল বালুরঘাট এলাকায় দের কোটি টাকার কিনেছেন সম্পদ,রয়েছে স্ত্রীর সন্তানের নামে সম্পদ ব্যাংক ব্যালেন্স। বেতন পান ৩২ হাজার টাকা খরচ করেন মাসে লক্ষ টাকা। তিনি দাম্ভিকতার সাথে বলেন প্রতিদিন ৩ প্যাকেট বেনসন সিগারেট লাগে আমার, চলাফেরা করেন শিল্পপতির নেয়। স্থানীয়রা বলছেন,শামসুদ্দিন ওরফে গ্যাস শামসুদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার হীরাঝিল, মিজমিজি, ভূমি পল্লী , হাউজিং সা আশপাশে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দিয়ে থাকেন এবং তিতাস অফিসের সঙ্গে যোগসাজশে লাইন বিচ্ছিন্ন করে আর্থিকভাবে ফায়দা লুটেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানাযায় । নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান । তার স্ত্রী সন্তানদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পতির অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে আসল রহস্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিতাস গ্যাস অফিসের শামসুদ্দিন নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশনে অনেক বছর চাকরি করেছেন। সেই সুযোগে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি সহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের  অবৈধ সংযোগ দিয়ে এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আবার পুনরায় চালু করেছেন, বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল অংকের টাকা। বহু বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও বিচ্ছিন্নের নামে টাকা কামিয়েছেন এ ছাড়া অবৈধ সংযোগ রয়েছে এমন বাসা থেকে মাসিক হারে গ্যাসের বিল উত্তোলন করেছেন তিনি । সেই সুবাধে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অন্যদিকে, অবৈধ গ্যাস ও গ্যাস সংযোগের নামেও তিনি প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন চুনাভাট্টির মালিকদের কাছ থেকে।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,বকেয়া বিল উঠানোর নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। বিভিন্ন সময়ে নানা কলাকৌশলে গ্যাস সংযোগের নামে ও আবাসিকে গ্যাস সংযোগের নামে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন। রাসেল নামের এক ব্যক্তি জানান ‘এখন আর সে গ্যাস শামসুদ্দিন না। বহু সম্পদের মালিক। এলাকায় অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। ’জয়নাল নামের এক লোক জানান, কয়েক বছরের ব্যবধানে গ্যাসের সঙ্গে অবৈধ লেনদেন করে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এলাকায় তিনি কোটিপতি দানবীর হিসেবে তাকে চেনেন এলাকাবাসী। ভুক্তভোগীরা জানান, বৈধ সংযোগ ডিমান্ড নোটের কথা বলে যে টাকা নিয়েছেন, টাকা তো ফেরত পাইনি বরং এখনো অবৈধই রয়ে গেছে সেই সংযোগ ।সরকার আবাসিকে তিতাস গ্যাসের বৈধ লাইন বন্ধ ঘোষণার পর যত সংযোগ এলাকায় দিয়েছেন, তা সবই অবৈধ হিসেবে রয়েছে। তিতাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে এই সংযোগগুলো বৈধ করে রেখেছেন এবং সংযোগগুলো থেকে প্রতি চুলায় এক হাজার টাকা করে তোলেন। শুধু তা-ই নয়, অবৈধ সংযোগের কথা বলে বহু বাসিন্দার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন তার ইচ্ছামতো টাকা।

এ ব্যাপারে শামসুদ্দিনের মোবাইলে একাধিক বার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা